শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ন্যূনতম চাহিদা দিকে নজর না দিয়ে শুধু সংরক্ষণে সমস্যা মিটবে কি?



শুধুমাত্র "কাস্ট বেসড রিজার্ভেশন" করে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর পরিপূর্ণ উন্নয়ন কখনও সম্ভব নয়। মানুষের নুন্নতম স্বাভাবিক ও প্রাথমিক চাহিদাগুলো আগে পূরণ করতে হবে। স্বাধীনতার এত বছর পরেও ভারতে বিরাট সংখ্যক মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে চরম দারিদ্রে জীবনযাপন করছেন। বেকারত্ব ভয়াবহ আকার নিয়েছে। অর্থণৈতিক বৃদ্ধির সুফল সমাজের নিচের তলায় পৌঁছায় না। শুধুমাত্র জিডিপি বৃদ্ধি অথবা বিশ্বয়ান-শিল্পায়নকে এগিয়ে নিলে দেশের সব মানুষের উন্নয়ন সম্ভব হয় না। সমাজের একটি বড়ো অংশ-মূলধারার অর্থনৈতিক কার্যক্রম তথা বাজার অর্থনৈতিক শরিক হয়ে উঠতে পারেনি। লিঙ্গবৈশিম্য আজও চরম ভাবে উপস্থিত। মানুষ জীবিকার তাগিদে গ্রাম থেকে শহরের দিকে ছুটে চলেছেন। বস্তিতে ভিড় বাড়ছে, অজস্র মানুষের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের প্রাথমিক চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। মানবপাচার ও দেহব্যবসার পরিধি ভয়াবহভাবে রূপ পরিগণিত। অর্থনীতির বেহাল অবস্থার ভয়াবহ প্রভাবে বহু মধ্যবিত্ত পরিবার নিম্নমধ্যবিত্তে পরিণত হয়েছে। কিছুদিন আগে পরিযায়ী শ্রমিকদের যে ভয়াবহরূপ আমরা দেখেছি, সেই ভিড় আবারও হয়তো আমরা দেখবো। তবে এবার দেখবো মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নমধ্যবিত্ত পরিণত হয়ে ওঠা মানুষের ভিড়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এখন আকাশছোঁয়া। বেসরকারি সংস্থাগুলা ভয়াবহভাবে কর্মিসংকোচন করে চলেছে। সরকারি ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ মারাত্মক ভাবে কমেছে। ব্যাঙ্কিং পরিষেবা সংকটে, কুটিরশিল্প কঠিন পরিস্থিতি।

ভারতে প্রায় ৭০ ভাগ ভৌগোলিক এলাকা গ্রামীণ, অথচ সেখানে কৃষির অবস্থা বেহাল। তামিলনাড়ুতে কিছু কৃষক যখন তাঁদের অর্থনৈতিক দুরবস্থার জন্য সরকারের সাহায্য চেয়ে অনশন করছিলেন। তখন ভারতের মিডিয়া ভোট নিয়ে ব্যস্ত ছিল। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে যতটা পরিপূর্ণ দেওয়া হয়েছে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে সেভাবে পরিপূর্ণতা দেওয়ার চেষ্টা হয় নি। যার ফল আমরা দেখেছি, চিনে ড্যাং শিয়াও পিংয়ের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক উদারীকরণের তাংপর্যপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে চিনে দরিদ্রসীমা ও বেকারত্ব দেখা গিয়েছিল। অপরদিকে, চিলিতে সাতের দশকে অর্থনৈতিক কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। অগাস্টো পিনোশেটের পরবর্তীতে অন্তর্জাতিক অর্থনৈতির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে দেশের মূল সমস্যা অবহেলিত থেকে গিয়েছিলো। ঠিক যেভাবে চিনে ব্যক্তিপিছু আয়বৃদ্ধি সত্ত্বেও দরিদ্র চরম আকার নিয়েছিল, সেভাবেই চিলি যেসময় দক্ষিণ আমেরিকার বাকি দেশগুলোর মধ্যে জিডিপি বৃদ্ধির নিরিখে সেরা ছিল, ঠিক সেই সময় চিলির বাস্তব সামাজিক ও অর্থনৈতিক ছবিটি আলাদা ছিল। আমি মুক্তবাজার অর্থনৈতিক নীতির বিরোধিতা করছি না। তবে এই নীতিকে অনুসরণ করার সঙ্গে মূল সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর পরিপূর্ণ সমাধান দরকার।

সবশেষে বলি, "কাস্ট বেসড রিজার্ভেশন" শুধুমাত্র প্রারম্ভিক দশ বছরের জন্য রাখার পক্ষপাতী ছিলেন আম্বেদকর। শুধুমাত্র কাস্টের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক, শিক্ষা তথা চাকরি পাওয়ার জন্য বিশেষ সুবিধার অধিকার আর যাই হোক যুক্তিযুক্ত নয়। শুধুমাত্র উচ্চবর্ণীয় হওয়ার কারণে কাউকে হাজার টাকা ফি দিয়ে চাকরির পরীক্ষায় আবেদন করতে হবে? আর একটি বিশেষ শ্রেণির জন্য ২৫০ টাকা ফি-র সুযোগ যুক্তিহীন। মেরিট লিস্ট তৈরি থেকে শুরু করে সবকিছুতেই এই বৈষ্যম। একজন পঞ্চাশ নম্বর পেলেই পরীক্ষায় বসার যোগ্য, আরেকজনের জন্য ৫৫ শতাংশ। তার মানে স্বাধীনতার এত বছর পরও নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণি খাতায়-কলমে পিছিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে বহু সমাজবিজ্ঞানী এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পথে পরিযায়ী শ্রমিকের যে ভিড় দেখেছি, তাঁরা নিম্নবর্ণের কিনা, সেই তথ্য আমাদের দরকার নেই। ওঁরা এই স্বাধীন দেশের পরাধীন মানুষ। 


শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মহামারি বোঝাল সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা কতটা জরুরি



শতাব্দীর ভয়ঙ্করতম মহামারির চেহারা নিয়েছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। এই বিপর্যয় আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও একবার জনসমক্ষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। একদিকে দেখা যাচ্ছে, দেশের হাসপাতালের ৬০ শতাংশ স্বাস্থ্য বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের আওতায়। অন্যদিকে, দেশের চিকিৎসকদের প্রায় ৮০ শতাংশ এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। অথচ করোনা সংক্রামণের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালের ভূমিকা অতি নগণ্য। অধিকাংশ বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান কার্যত হাত গুটিয়ে বসে। যে গুটিকয়েক বেসরকারি হাসপাতাল করোনা চিকিৎসা করছে, তাদের খরচ সাধারণ মধ্যবিত্তের ধরাছোয়ার বাইরে। এমতাবস্থায় দেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রাগুলি সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে এই মহামারির বিরুদ্ধে একা কুম্ভের মতন লড়ে যাচ্ছে। মহারাষ্টের ৮২ শতাংশ মানুষের বিনামূল্যে করোনা চিকিৎসা করছে সরকারি হাসপাতালগুলি। যে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে উচ্চবিত্তরা অবজ্ঞার চোখে দেখতেন, কোনওদিন ধাতর্বের মধ্যে আনতেন না। এই মহামারির পরিস্থিতিতে তাঁরাও আবার উপলব্ধি করছেন, গণস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে রাষ্টের ভূমিকা ও সুদীর্ঘ জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রয়োজনিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রোম নগরী যেমন একদিনে তৈরি হয়নি, তেমনি ভারতের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো রাতারাতি এই জায়গায় পৌঁছোয়নি। এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। সেই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকগুলি একবার ফিরে দেখা যাক। ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষে স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলতে মূলত ছিল ঊনবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশক থেকে কলকাতা, মাদ্রাজ, বোম্বাইয়ের মতো বিভিন্ন বাণিজ্যনগরী এবং দার্জিলিংয়ের মতো কিছু শৈল শহরে ইংরেজ কর্মচারী, সেনাবাহিনী এবং দেশীয় জমিদারের পরিবার পরিজনদের চিকিৎসার জন্য তৈরি কিছু হাসপাতাল। যদিও কিছু মিশনারি সংস্থা জনসাধারণের জন্য কিছু দাতব্য চিকিৎসালয় খুলেছিলো। কিন্তু সারা ভারতে সেগুলির সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। আসলে বাংলার নবজাগরণের সময় থেকে ব্রাহ্মসমাজ এবং অন্যান প্রগতিশীল মানুষজনের উদ্যমে ভারতীয়দের মধ্যে প্রাশ্চ্যাত চিকিৎসা ব্যবস্থা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে শুরু করে। ভারতীয়রাও ডাক্তারি পড়তে শুরু করেন, যদিও সেই প্রবণতা শহরে বিত্তশালী উচ্চবংশীয় পরিবারের পুরুষদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষে দিকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বেড়াজাল ভেঙে কাদম্ব কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়, আনন্দীবাঈ জোশি, হৈমবতী সেনের মতো কিছু সম্ভ্ৰান্ত পরিবারের মহিলা পুরুষ প্রভাবিত ডাক্তারি দুনিয়ায় সফলভাবে পদার্পন করেছিলেন।

তখন দলিত ও আদিবাসী সমাজের ছেলে মেয়েদের পক্ষে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ হয়নি। চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল মূলত শহরকেন্দ্রিক। গ্রামাঞ্চলে মানুষ মূলত বৈদ্য-হাকিম-ওঝাদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। ইংরেজ শাসকদের অনুকূল্যে ভারতীয় উপমহাদেশের আয়ুর্বেদ, ইউনানি, সিদ্ধা, হাকিম ইত্যাদি চিকিৎসা পদ্ধতি ততদিনে ইউরোপীয় আধুনিক আলোপ্যাথি চিকিৎসার কাছে কৌলিন্য হারিয়েছে। বর্তমান সময়েও যে সেই পরিস্থিতির সম্পূর্ণ বিনাশ ঘটেছে, তা বলা যাবে না। আজও চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেকটাই শহরকেন্দ্রিক ও পুরুষশাসিত। স্বাধীন ভারতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার পথচলা শুরুহয়ে ভোরে কমিটির হাত ধরে। জোসেফ উইলিয়াম ভোরে'র নেতৃত্বে এই কমিটি ভারতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার এক পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেয়, যা স্বাধীন ভারতের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার রূপরেখাটি তৈরী করে দিয়েছিলেন। এই কমিটির সদস্যদের অন্যতম ছিলেন তৎকালীন বিখ্যাত চিকিৎসক বিধানচন্দ্র রায়, যিনি পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমীক্ষা করে এই কমিটি ভারতীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার করুন দশার পাশাপাশি অপুষ্টি, চরম দরিদ্র, বেকারত্ব, নিরক্ষরতা, স্বাস্থ্য-শিক্ষার অভাব, বসবাসের অনুপযুক্ত বাড়িঘর, সৌচাগার এবং নিকাশি ব্যবস্থার অপ্রতুলতা তথা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস ইত্যাদিকে ভারতীয়দের স্বাস্থ্য সমস্যার মূল কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন।

প্রকৃত অর্থে স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলতে শুধুমাত্র রোগ নিরাময়ের জন্য চিকিৎসা ও হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরী ইত্যাদি বোঝায় না। অর্থাৎ শুধু চিকিৎসা পরিকাঠামোর উন্নতি করলেই স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। পূর্বে উল্লেখিত আর্থসামাজিক সমস্যাগুলির দিকে বিশেষ নজর দেওয়ারও প্রয়োজন রয়েছে। এই সোমবার সমাধান করলে শিশু ও মাতৃকালীন উচ্চ মৃত্যুহার, বিভিন্ন মহামারি রোধের পাশাপাশি জনসাধারণের সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতিবিধান সম্ভব। উন্নতি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ম্যালেরিয়া বা ডায়েরিয়ার মতো রজার চিকিৎসায় রাষ্ট্রকে হাসপাতাল তৈরির পাশপাশি এই রোগগুলি দমনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যেমন নিয়মিত জঙ্গল-জঞ্জাল পরিষ্কার এবং জনস্বাস্থ্য পরিশ্রুত পানীয়জল সরবরাহ ইত্যাদি সুনিশ্চিত করতে হবে। সাত দশক পেরিয়ে গেলেও ভোরে কমিটির মতো এমন পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ সহ পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের জুড়ি মেলা ভার ভারতবর্ষে। অথচ বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটেও এই কমিটির সুপারিশ সমান প্রাসঙ্গিক।

স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে সম্পূর্ণ সরকার পোষিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালু করার পরামর্শ দিয়েছিলো ভোরে কমিটি। এই কমিটির একটি কালজয়ী প্রস্তাব 'সবার জন্য স্বাস্থ্য'। অর্থাৎ ধনী, গরিব নির্বিশেষে সমস্ত জনগণকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেবে রাষ্ট্র। ন্যায় এবং সাম্যের আদর্শে চিকিৎসা ব্যবস্থা হবে সার্বজনীন। দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রাগুলিকে তিনটি স্তরে ভাগ করে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরে বিশেষ্যত গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রাগুলিকে সমৃদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছিলো এই কমিটি। এই তিনটি স্তরের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের জন্য ফেডারেল ব্যবস্থার প্রস্তাব ছিল কমিটির রিপোর্টে। জওহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বাধীন তৎকালীন ভারত সরকার উপলব্ধি করেছিল, গনচিকিৎসা এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা হল কল্যাণকামী রাষ্ট্রের কাজ। কাজেই একে ঢেলে সাজানো জরুরি। ভোরে কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী প্রথম এবং দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় চিকিৎসা পরিকাঠামো যেমন হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ইত্যাদি সৃষ্টিতে এবং মানবসম্পদ যেমন চিকিৎসক, নার্স, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী তৈরিতে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ম্যালেরিয়া দমন, মাতৃকালীন মৃত্যু এবং শিশুমৃত্যু রোধের পাশাপাশি পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থা এবং সৌচালয় তৈরিতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছিল। এরপরও বিভিন্ন সময়ে গঠিত অন্যান্য কমিটি যেমন মুদালিয়ার কমিটি (১৯৬২), চাড্ডা কমিটি (১৯৬৩), কাতার সিংহ কমিটি (১৯৭৪), শ্রীবাস্তব কমিটি (১৯৭৫) কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যেমন মাল্টিপারপাস হেলথ ওয়ার্কার্স পদ সৃষ্টি, চিকিৎসা শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষন ইত্যাদি করেছিল। এতে ভারতীয় গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা মজবুত হতে শুরু করেছিল। এছাড়া বেশকিছু আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং সংস্থা ভারতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলো। ১৯৭৮ সালে সোভিয়েত উনিয়নের আলমা-আটা শহরে ভারত সহ বিশ্বের ১৩৮টি দেশ এক ঘোষণাপত্রে সাক্ষর করে যা "আলমা-আটা ডেক্লারেশন" নাম পরিচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তৎকালীন মহাপরিচালক হাফদান মাহলার এই সম্মেলনের আয়োজন এবং আর রূপরেখা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। এই অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলি প্রাথিমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সুদীর্ঘ করতে এবং স্বাস্থ্যকে মানুষের অধিকার হিসাবে সুনিশ্চিত করার অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে "সবার জন্য স্বাস্থ্য" এই বৈপ্লবিক ঘোষণাটি করে। এই সম্মিলনের পর ভারত সরকার ১৯৮৩ সালে প্রথম জাতীয় স্বাস্থ্য আইন প্রণয়ন করে, যাতে আলমা-আটা ঘোষণার প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয় ছিল।

ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কোনোদিনই পুরোপুরি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত এবং পরিচালিত ছিল না। সরকারি সাস্থ্যব্যবস্থার পাশাপাশি চিকিৎসার ক্ষেত্রে বেসরকারি ক্লিনিক, প্রাইভেট প্র্যাকটিস ইত্যাদির প্রচলন শুরু থেকেই ছিল। তবে গত শতাব্দীর নয়ের দশকে ভারতীয় অর্হনীতির উদারনীতিকরণ এবং বিশ্বায়নের ধাক্কায় অন্যান ক্ষেত্রের মতো চিকিৎসা ব্যবস্তাতেও বাণিজ্যকরণের পথকে সুগম করে দিয়েছিলো। এই সময় থেকে ভারতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থায় দেশি-বিদেশী বেসরকারি সংস্থার প্রভাব বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। রাজনৈতিক প্রভাব এবং অর্থনৈতিক প্রতিপত্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদেশফেরত বেশ কিছু চিকিৎসক বিশেষত দক্ষিণ ভারতের কিছু শহরে কর্পোরেট স্টাইলে বিলাসবহুল হাসপাতাল খুলে বসেন। ক্রমশ এই হাসপাতালগুলির শাখা সারা ভারতে ছড়িয়ে পরে। এই সময় ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলি কম পয়সায় প্রাণদায়ী ওষুধ তৈরী এবং বিক্রি করে প্রায় সারা বাজার দখল করে নেওয়ার উপক্রম করেছিল। কিন্তু "ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস" সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির কল্যানে ভারতের দেশীয় বাজারেই ওষুধের দাম এখন আকাশছোঁয়া। ছোট্ট শহরগুলিয়েও ছোট-বড় নানা ধরণের নার্সিংহোম, প্রাইভেট ক্লিনিক ইত্যাদি ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, নানাভাবে মধ্যবিত্ত মননে এই ধারণাকে সুদীর্ঘ করা হয়েছে যে, সরকারি প্রতিষ্টান মানে সেখানে যথাযথ  পরিষেবা পাওয়া যায় না। এই বিশাল আঁতাত বিভিন্ন রকম প্রচার করে সাধারণ জনতাকে সরকারি হাসপাতাল থেকে নার্সিংহোমমুখী হতে বাধ্য করেছে। "আয়ুষ্মান ভারত" নিয়ে যতই ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার করা হোক না কেন, আসলে এই বিমা নির্ভর প্রকল্প স্বাস্থ্যব্যবস্থার পথকে সুগম করেছে। যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে সরকার এই বিমার প্রিমিয়াম দিচ্ছে, সেই টাকায় সরকারি হাসপাতালগুলির চেহারা এবং পরিকাঠামো, দুই পাল্টে দেওয়া যেত। ২০০৫ সালে প্রবর্তিত ন্যাশনাল রুরাল হেলথ মিশন (এনআরএইচএম) এর হাত ধরে এই চেষ্টা একবার শুরু হয়েছিল বটে। এই মিশন সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয়, বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় প্রভূত উন্নতির পাশাপাশি মাতৃত্বকালীন এবং শিশুর মৃত্যুহার কমানোয় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল। এই প্রসঙ্গে ন্যাশনাল রুরাল হেলথ মিশনে নিযুক্ত আশাকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার কথা আলাদা করে বলতেই হবে। এই আশাকর্মী, অক্সিলিয়ারি নার্স মিডওয়াইফ (এএনএম) এবং কমিউনিটি হেলথ অফিসার (সিএইচও) প্রমুখ স্বাস্থ্যকর্মীই এখন দেশের প্রতিটি গ্রামে করোনা মহামারীর সঙ্গে যুদ্ধে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়ছেন।

এই মহামারি পরিস্থিতি আবার আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলিতে সরকারি হাসপাতাল এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। বেসরকারি হাসপাতালগুলি শুধুমাত্র "ক্লিনিকাল হেলথ" এবং "কিউরেটিভ কেয়ার" পরিষেবা দিতে আগ্রহী। কারণ, জনস্বাস্থ্য হল জনসম্পদ, অর্থনীতির ধ্রুপদী নিয়মানুযায়ী যেখানে মুনাফা অর্জনের সুযোগ কম। কাজেই বৈপ্লবিক ঘোষণা "সবার জন্য স্বাস্থ্য" নিয়ে আরও একবার ভাবার সময় এসেছে। সময় এসেছে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিকে ফিরে তাকানোর।






















স্যানিটাইজার আসল নাকি নকল? নিজেই পরীক্ষা করে দেখুন


আসল থেকে নকল ছেয়ে গেছে বাজারে। নিজের স্যানিটাইজার নিজেই পরীক্ষা করে নিতে শিখুন। কিন্তু কিভাবে? বাজারে এখন অসংখ্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার। প্রতিটির গায়ে লেখা আছে ৭০ শতাংশ এলকোহল। কিন্তু সত্যি কি তাই? সব স্যানিটাইজার আসল? না। তাহলে কিভাবে চিনবেন কোন হ্যান্ড স্যানিটাইজার সবচেয়ে নিরাপদ কার্যকারী বা খাঁটি। আসুন জেনে নেওয়া যাক তিনটি ঘরোয়া উপায়ে।

১. একটি পাত্রে সামান্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে সেটি শুকোনোর চেষ্টা করুন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শুকিয়ে গেলে ওই হ্যান্ড স্যানিটাইজার খাঁটি। নকল বা এলকোহলের মাত্রা কম হলে সেটি শুকোতে সময় লাগবে বেশি।

২. টিস্যু পেপারে কলমের দাগ দিয়ে ওই দাগের উপর কয়েক ফোটা স্যানিটাইজার ঢালুন, পেনের কালি দ্রুত টিশু পেপারে ছড়িয়ে গেলে বুঝতে হবে ওই স্যানিটাইজার নকল বা এতে এলকোহলের মাত্রা অনেক কম। টিশু পেপারে কালি না ছড়িয়ে সেটি মুহূর্তে শুকিয়ে গেলে বুঝতে হবে, তা অত্যন্ত কার্যকরী।

৩. একটি ছোট পাত্রে সামান্য ময়দা নিয়ে তাতে কিছুটা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে মাখতে শুরু করুন, ময়দা দলা পাকিয়ে গেলে বুঝতে হবে ওই স্যানিটাইজার নকল বা এতে এলকোহলের মাত্রা অনেক কম। খাঁটি স্যানিটাইজার ক্ষেত্রে এমনটি হবে না।


বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মেয়েদের যেসব প্রশ্ন করতে পাগল ছেলেরা




সম্পর্ক এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে প্রেমিক-প্রেমিকারা একে অন্যের বিষয়ে কতকিছুই না জানতে চান। বিশেষ করে প্রেমিকার মনে হাজারো-লক্ষ প্রশ্ন লুকিয়ে থাকে। এখানে দেখে নিন এমনি কিছু প্রশ্ন, যা প্রায় প্রতিটি ছেলেই তার প্রেমিকা বা পরিচিত মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করতে চান। কিন্তু করেন না অথবা প্রশ্ন না করে নিজেরাই তা বোঝার চেষ্টা করেন।

১. তুমি আমার সব বিষয়ে এত কিছু জানতে চাও কেন?
মূলত প্রেমিকারা, প্রেমিকের সব বিষয়ে নাক গলাতে চায়, যা কিছু ছেলেরা সাধারণত চায় না।

২. তোমার প্রিয় কুকুর-বিড়ালের জন্মদিন মনে রাখতে হবে কেন?
মেয়েরা প্রতিটি বিশেষ দিন-তারিখ পরিষ্কার মনে রাখতে পারেন। প্রেমিকার জন্মদিনও ভুলে যান অনেক প্রেমিক। সেখানে তার প্রিয় কুকুরের জন্মদিনের কথা মনে রাখাটা গুরুদায়িত্বে পরে না বলেই মনে করেন পুরুষরা।

৩. আমার সঙ্গে ও আবারও কথা বলতে চাইছে কেন?
সাধারণত ছেলেরা এই বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তায় থাকেন। তাদের প্রাক্তন গার্লফ্রেন্ড পুনরায় সম্পর্ক তৈরির জন্য অনেক সময় প্যাঁচ-পয়জার কষেন। তার ফলে প্রশ্নটি ঘুরপাক খায় মনের মধ্যে।

৪. বন্ধুদের সঙ্গে আমার আড্ডা মেনে নিতে চাও না কেন?
ছেলেরা বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতে চায়। কিন্তু প্রেমিকা তা মেনে নিতে নারাজ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই।

৫. তোমার ওই বান্ধবীরদের সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দাও না কেন?
এই প্রশ্নটি ছেলেদের মনে ভীষণভাবে ঘুরপাক খায়। কিন্তু তা প্রশ্নের আকারে প্রেমিকার কাছে তুলে ধরা বেশ বিপজ্জনক।

৬. আকর্ষণীয় নারীর সঙ্গে কি ধরণের আচরণ করতে হয়?
এই মেয়েরাই সবচেয়ে ভালো বলতে পারেন। কিন্তু তা কখনও প্রেমিককে বলেন না। আর ছেলেরাও তা জিজ্ঞাসা করে উঠতে পারেন না।

৭. ছেলেদের দেহের কোন অংশ মেয়েদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়?
সব ছেলেই এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়। কিন্তু জিজ্ঞাসা করার সাহস কিছুতেই পায় না।

৮. ছেলেদের পরিপাটি হয়ে থাকার বিষয়টি মেয়েরা কি চোখে দেখেন?
এই প্রশ্নের উত্তর কোনও প্রেমিকাই দিতে চাইবে না। ছেলেদের তা বুঝে নিতে হবে।

৯. অন্তরঙ্গ সময়কে আরও রোমাঞ্চকর করা যায় কিভাবে?
বিষয়টি নিয়ে ভীষণ ভাবে কথা বলতে চান ছেলেরা। কিন্তু তা কখনও মুখে প্রকাশ করতে পারেন না।

১০. কোনও মেয়ে মোবাইল নম্বর দিলে ঠিক কত সময় পর তাকে ফোন করা উচিত?
এই প্রশ্নটি বেশ চিন্তায় ফেলে ছেলেদের। কিন্তু প্রেমিকার কাছে জানতে চাইতেও পারেন না।

১১. প্রথম ডেটিংয়ে একই মেয়ের মন জয় করতে গেলে ঠিক কি কি করতে হয়?
যেহেতু বর্তমান প্রেমিকাকে ছেড়ে নতুন প্রেম করতে চাইছেন না। কাজেই এ প্রশ্ন প্রেমিকার কাছে তোলা বেশ বিপজ্জনক। কিন্তু সব ছেলেই তা জানতে চায়।

১২. তুমি কি আমাকে বন্ধু ভাবো নাকি অন্যকিছু?
কোনও মেয়ের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠার পর ছেলেদের মনে এই প্রশ্নটি জেগেই। কিন্তু কখনও মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন না।

১৩. তোমাকে খুশি করতে আমার কোন কোন কাজের কোনও অর্থ খুঁজে পাও না তুমি?
ছেলেরা মেয়েদের খুশি করতে অনেক কিছু পারেন। কিন্তু আর মধ্যে বেশ কিছু কাজ করে কোনও লাভ হয় না। সেই কাজগুলো কি কি, তার ফিরিস্তি জানতে চান না মেয়েরা।

১৪. সবসময় সন্তান নিতে চাও কেন?
বিয়ের পর বা বিয়ের পরের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা এ কথাটি বলতে চান পুরুষরা। কিন্তু হিতে বিপরীত হতে পারে বলে তা আর বলতে পারেন না।

১৫. সব কাজে এত সময় নষ্ট করো কেন তুমি?
সাজগোজে মেয়েরা প্রচুর সময় ব্যয় করেন। এ বিষয়ে ছেলেরা অস্থির হয়ে পড়লেও সেভাবে অভিযোগ করে উঠতে পারেন না। কারণ তারা জানেন যে, বিষয়টি সহজাত।



গলা ভেজাতে ঘরোয়া রেসিপি চা

চিকিৎসকরা বারবার গরম পানীয়চা খেলেই যে করোনা নির্মূল হবে এমনটা নয়। তবে করোনার পরিবেশে ঘরোয়া চা গলা ভেজানোর জন্য উপযুক্ত সময় এই সুযোগে কিছু রেসিপির চা চাখা হয়ে যাবে।


মশলা চা


কি কি লাগবে :-

ছোটো এলাচ ৫ টি, দারুচিনি ১ টুকরো, চিনি স্বাদমতো, দুধ ১ চাপ, গোলমরিচ ১ টি, লবঙ্গ ৪ টি, চা পাতা ২ চা চামচ, আদা মিহি করে কাটা কয়েক টুকরো।

কিভাবে করবেন :-

এলাচের খোসা ফেলে ভিতরের মসলা বের করে নিন। সব মসলা একসঙ্গে গুঁড়ো করে ফেলুন মিহি করে। প্যানে ৪ কাপ জল গরম করে চা পাতা দিন। চাইলে আধা চা চামচ গ্রীন টি পাতাও দিতে পারেন ব্ল্যাক চায়ের সঙ্গে। আবার গুঁড়ো করে রাখা মশলা আর চিনি দিন। দুধ ও আদা গুঁড়ো দিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন। নামানোর আগে আদা কুচি করে অল্প জ্বালে মিনিট কয়েক রেখে দিন, তারপর নামিয়ে নিন। হয়েগেলো মশলা চা।




মধু, লেবু আদা চা


কি কি লাগবে :-

২ কাপ জল, ছোটো ১ চামচ আদা মিহি করে কুচোনো, চা পাতা ছোটো ২ চামচ, ছোট এক চামচ পাতিলেবুর রস, ছোটো এক চামচ মধু,

কিভাবে করবেন :- 

একটি প্যানে ২ কাপ জল গরম করতে বসান, ফোটার খানিক আগে মিহি করে কুচো আদা দিন। জল ফুটতে শুরু করলে চা পাতা দিন। মনে রাখবেন, প্রতি কাপ চায়ের জন্য এক চামচ চা পাতা দেবেন। এরপর আগুন নিভিয়ে ওতে পাতিলেবুর রস ও মধু দিন। চা পাতা ছেঁকে কাপে ঢেলে সকালবেলা যদি খান দেখবেন ক্লান্তি, ঘুম সব একসঙ্গে পালিয়েছে। তাছাড়া স্ট্রেসে যখন থাকবেন এটি বানিয়ে খাবেন, ম্যাজিকের মতো উপকার পাবেন।


মালাই এলাচি চা


কি কি লাগবে :-

দুই কাপ চায়ের জন্য দুধ দেড় কাপ, আধ কাপ জল, মালাই বা ক্রিম ৪ চামচ, ১ টি এলাচ, ১ টি লবঙ্গ, ২ চামচ চা পাতা, ৩ চামচ চিনি।

কিভাবে করবেন :-

একটি সসপ্যানে কম আঁচে দুধ ধোন করতে বসান, সামান্য ঘনো হয়ে এলে এলাচ ও লবঙ্গ থেঁতে দিন। আবার দুধ ফুটে এলে ওতে জল ও চা পাতা দিন। আপনার মালাই এলাচি চা তৈরি। এবার ছেঁকে নিয়ে কাপে ঢেলে পরিবেশন করুন।



তন্দুরি চা


কি কি লাগবে :-

এক কাপ ঘন দুধ, জল দেড় কাপ, ২ চা চামচ চা পাতা, ২-৩ টি পুদিনা পাতা, ২ টি লেবুপাতা, ২ চিমটে চা মশলা, স্বাধমতো চিনি, ২ টি মাটির ভাঁড়।

কিভাবে বানাবেন :-

মাটির ভাঁড় দুটো আগুনের আঁচে মিনিট দশেক পুড়িয়ে নিন। একটি পাত্রে দুধ খুব ভালো করে ফুটিয়ে নামিয়ে রাখুন। অন্য একটি পাত্রে জল ফুটিয়ে তাতে একে একে চিনি, পুদিনা পাতা, লেবুপাতা, চায়ের মশলা, চা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে নিন। এরপর ঘন করে ফুটিয়ে রাখা দুধ দিয়ে আরো কিছুক্ষন ফুটিয়ে নিন। একটি বড়ো পাত্রের মধ্যে পুড়িয়ে রাখা মাটির ভাড়ঁ দুটো রেখে তাতে চা ছেঁকে ঢেলে দিন, হয়ে গেলো তন্দুরি চা।







মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

এক্সপায়ার করে গেছে মেকআপ কিট ? ফেলবেন না


এক্সপায়ারি ডেট পেরিয়ে যাওয়া দামি মেকআপের জিনিস নিত্যনৈমিত্তিক অনেক কাজেই লাগাতে পারে। চটজলদি জেনে নেওয়া যাক এর বেশ কয়েকটি ব্যবহার। 

১) টোনার :- 

এক্সপায়ার করে যাওয়া টোনার দিয়ে পরিষ্কার করতে পারেন কাচ, আয়না, মোবাইল, কিংবা অন্য কোনো গ্যাজেট। তা দিব্বি চকচক করবে নতুনের মতো। 

২) লিপবাম :-

পুরানো হয়ে যাওয়া লিপবাম বা ভেসলিন কৌটোতে রয়ে গিয়েছে ? লিপবাম বা পেট্রোলিয়াম জেলি কাজে লাগবে চামড়ার জুতোর জন্য। ব্রাশ দিয়ে ঘষে লাগিয়ে নিন জুতোতে, ঝা-চকচকে হয়ে উঠবে পুরানো জুতোজোড়া। 

পারফিউম :-

মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া পারফিউমে বা সেন্ট ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক হলেও রুম ফ্রেশনার অথবা বাথরুম ডিওডোরাইজার হিসাবে কাজে লাগানোই যায়।  

লিপস্টিক :-

লিপস্টিক দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন লিপবাম, মাইক্রোওয়েভে গরম করে জীবাণুমুক্ত করার পর পেট্রোলিয়াম জেলির সঙ্গে মিশিয়ে ফ্রীজে রাখলেই তৈরি লিপবাম। 

ফেস অয়েল :-

বাতিল হয়ে যাওয়া ফেস অয়েলর সঙ্গে কফির ডাস্ট কিংবা চিনি মিশিয়ে স্নানের স্ক্রাবার তৈরি করা সম্ভব।    
আইশ্যাডো :-

নেইলপলিশের সঙ্গে আইশ্যাডো মিশিয়ে নিলেই তৈরি হতে পারে রং-বেরঙ্গের নেল পেন্ট। 

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ঘরোয়া উপায়ে মূত্রনালির সংক্রমণ থেকে মুক্তি


মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউরিন ইনফেক্শন অত্যন্ত অস্বস্তিকর সমস্যা। আমাদের দেহ থেকে তরল বজ্ৰ বের হওয়ার জন্য যে সিস্টেম রয়েছে তাকেই মূত্রতন্ত্র বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট বলে। মূত্রতন্ত্রে যেকোনো অংশে জীবাণুর সংক্রমণ হলে তাকে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) বলে। কিডনি, মূত্রনালি সহ একাধিক অংশে এই ধরণের সংক্রমণকে উরিনে ইনফেকশন বলা হয়। মূত্রনালিতে সংক্রামণের জন্য ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা ভাইরাস দায়ী হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াই দায়ী। 

মূত্রনালির সংক্রামণের লক্ষণ 

প্রস্রাবের বেগ আসা সত্বেও ঠিকমতো প্রস্রাব না হওয়া বা খুবই সামান্য হওয়া, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া করা, প্রস্রাবের রং পরিবর্তন ও দুর্গন্ধ হওয়া, ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া, পেট ব্যথা, জ্বর, বমিবমি ভাব ও বমি হওয়া, অবসন্ন ও ক্লান্ত অনুভব করা। ছোটদের ক্ষেত্রে ডায়েরিয়া, জ্বর, খেতে না চাওয়া ইত্যাদি হতে পারে।  

এই রোগে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরাই বেশি আক্রান্ত হয়। কারণ মেয়েদের মূত্রনালির পায়ুর খুব কাছাকাছি থাকে। ফলে মলদ্বার দিয়ে নির্গত ব্যাক্টেরিয়া সহজে মূত্রনালীতে যেতে পারে। এছাড়া মেয়েদের মূত্রনালি ছোট হওয়ায় ব্যাক্টেরিয়া সহজেই মূত্রথলি ও কিডনিতে পৌঁছে সক্রামণ ঘটাতে পারে। প্রস্রাবে পরীক্ষার মাধ্যমে মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউটিআই নির্ণয় করা যায়। এই সংক্রমণ প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে দ্রুত সুস্থ হওয়া যায়। তবে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতির মাধ্যমে মূত্রনালির সংক্রমণ থেকে পুরোপুরি মুক্তি মেলে। যেমন, 

১) আপেল সিডার ভিনেগার ইউরিনারি নালীর ইনফেকশন রোধে সক্ষম। এই ভিনেগার প্রাকৃতিক এন্টিব্যায়োটিক হিসাবে কাজ করে। এক গ্লাস জলের সঙ্গে ২ চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে খেয়ে নিন। উপকার পাবেন। 

২) লেবুর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। 

৩) বেকিং সোডার অ্যাসিড উপাদান প্রস্রাবের সমস্যা রোধ করে এবং ব্যথা দূর করে। এই সমস্যা এড়াতে এক চামচ বেকিং সোডার সঙ্গে এক গ্লাস জল মিশিয়ে প্রতিদিন ১/২ বার খান। 

৪) আনারসের থাকা ব্রোমেলাইন মূত্রনালির সংক্রমণের জ্বালাপোড়া রোধ করে। তবে শুধু আনারস না খেয়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিব্যায়োটিকও খেলে ভালো হবে।  

৫) অবশ্যই প্রচুর জল খান। শসাও খেতে পারেন।

৬) এক মুঠো সেলেরি বীজ চিবিয়ে রস খেতে পারেন। অথবা বীজ দিয়ে ঢেকে রাখুন, ৮ মিনিট পর মিশ্রণটি ছেঁকে খেয়ে নিন। 

৭) হট ওয়াটার ব্যাগ নিয়ে তলপেটের উপর রাখতে পারেন। এতে দ্রুত প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া ও ব্যথা দূর হবে।  

৮) আরামদায়ক পোশাক পড়ুন। 

জল খেলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না


জীবনের সবকিছুর যেমন ব্যালেন্স দরকার হয়। তেমনি জলপানেরও সঠিক ব্যালেন্স রাখা জরুরি। গবেষকরা বলেছেন প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জল খেলেই সর্বনাশ। গবেষকরা বলেছেন, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জল খেলে বিগড়ে যেতে পারে শরীর। 'বেশি করে জল খাস', কিংবা 'জল খেয়েছিস তো'? জিয়ো পরামর্শ আমরা সবাই রোজ শুনতে অভ্যস্ত। বাচ্ছাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খায়ানো নিয়ে মায়েদের নাজেহাল হওয়ার দশার ছবিও নতুন কিছু নয়। কিন্তু এখানেই লুকিয়ে আছে অজানা বিপদ। জীবনের সব কিছুর যেমন ব্যালেন্স দরকার হয়, তেমনি জলপানের সঠিক ব্যালেন্স রাখা জরুরি। গবেষকরা বলছেন, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাত্রায় জল খেলে সর্বনাশ। শরীরের জলের ঘাটতি হলে যেমন ডিহাইড্রেশনের সমস্যা দেখা দেয় আমাদের, তেমনি জলের অধিক্য হলে ওভার-হাইড্রেশন হতে পারে, যা থেকে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে প্রধান, শরীরের সোডিয়ামের মাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যাওয়া।

হাইপোনেট্রেমিয়া, অর্থাৎ শরীরের সোডিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়া, মগজ স্ফীতির জন্য দায়ী। এইধরণের সমস্যায় সাধারণত বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। মাথায় আঘাত, পচন, হৃদরোগজনিত সমস্যা থাকলে সাধারণত হাইপোনেট্রেমিয়ার সম্ভবনা থাকে। মস্তিষ্কের হাইড্রেশন সেনসিং মেকানিজমে প্রভাব ফেলে এটা। ডিহাইড্রেশন হলে তা যেভাবে মস্তিষ্কের হাইড্রেশন সেনসিং নিউরন চিহ্নিত করতে পারে, ওভারহাইড্রেশনের ক্ষেত্রে এই নিউরন তা পারে না। যার জোরে সমস্যা হয়, এমনটাই মনে করছেন গবেষকরা। 

গবেষকদের সাবধানবাণীর পর এবার থেকে সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে ঘুমোতে যাওয়া পৰ্যন্ত সারাদিনে ক'গ্লাস জল খাচ্ছেন, তার হিসেবনিকেশ রাখা আপনার ডেইলি রুটিনের মধ্যে রাখতে হচ্ছেই। ঘুরতে ফিরতে কি আপনার ঘন ঘন খাওয়ার বদ অভ্যেস রয়েছে ? কিছু খান বা না খান, ঢকঢক করে কি জল খেয়ে ফেলেন? তাহলে কিন্তু বিপদ। 

সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০

নিজের চিমনি নিজেই পরিষ্কার করুন


সময় লাগবে মাত্র কুড়ি মিনিট।তাহলে রেডি তো ?
বড় রান্নাঘর এখন অতীত।ছোট্ট দু-কামরার ফ্ল্যাটে কোনোরকম স্থান সংকুলন করে রান্নাঘর তৈরী করে নেওয়া। সেই অর্থে আলো-বাতাশ ঢোকে না বিশেষ। তাই তেল মসলা ধোঁয়া বা কালি থেকে রক্ষা করার জন্য রান্নাঘরে চিমনি মাস্ট। তবে চিমনি রাখলে নির্দিষ্ট সময় অন্তর তাকে পরিষ্কার করতে হবে কিন্তু  কোম্পানির লোককে খবর দিলে এসে পরিষ্কার করে দেবে বটে। নিজে হাতেও পরিষ্কার করে নিতে পারেন। সামান্য কিছু সহজ পদ্ধতি মেনে চললেই হয়ে যাবে মাত্র কুড়ি মিনিটে।

প্রথমত চিমনিতে থাকা নেট খুলে ফেলুন। ব্রাশ দিয়ে ভালো করে ঝেড়ে ফেলুন, এতেই নেটের ওপর লেগে থাকা ঝুল, ময়লা বেরিয়ে যাবে।বাকি থাকবে চিমনির গায়ে লেগে থাকা তেলচিটে চটচটে ভাবটা।এবার একটা স্টিল বা অ্যালুমিনিয়াম এর বড়ো পাত্র নিন, তার মধ্যে গরম জল দিন। বেকিং সোডা মিশিয়ে দেন। চিমনির নেটটি তার মধ্যে ডুবিয়ে রাখুন কিছুক্ষন।এবার গরম জলে ডোবানো নেটের পাত্রটি গ্যাসের ওপরে বসান, ভালোকরে ফোটাতে থাকুন। কিছুক্ষন পরে নামিয়ে ভালো করে ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিন, তাতেই দেখবেন চিমনি একেবারে নতুনের মতো ঝকঝক করছে। মাত্র কুড়ি মিনিটে চিমনি হয়ে গেলো একেবারে সাফ।

মোরিঙ্গা খান ভাইরাস তাড়ান


বলুন তো মোরিঙ্গা কি ? যার জুস পান করেন দক্ষিণ ভারতের বহু স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ। অনলাইনে অনেকেই অর্ডার দেন কয়েক হাজার টাকা দামের মোরিঙ্গা পাউডার। এই ম্যাজিক পাউডার নাকি সব রোগব্যাধি দূর করে মানুষকে সুস্থ রাখে বহুদিন। আসলে মোরিঙ্গা পাউডার আমাদের প্রতিবেশী 'মোরিঙ্গা ওলাইফেরা' বা সজনে গাছ থেকে তৈরী হয়। ইউরোপ-আমেরিকার গবেষক বিজ্ঞানীদের নজর পড়ার পরেই বিশ্বজুড়ে এই গাছের কদর বেড়েছে ভীষণ। তবে দামি পাউডার না খেয়ে যদি আপনি বাঙালির ঘরোয়া রান্না ডাটা-চচ্চুরি, ডাঁটা পোস্তো বা সজনে ডাঁটা দিয়ে শুক্তো খান, একই উপকার পাবেন। সজনে  পাতা ও ফুলও সমান উপকারী। সারা বছর সব রান্নায় মিশিয়ে নিতে পারেন কয়েকটা সজনে পাতা। 

সজনে ডাঁটা, পাতা, ফুল সবেতেই রয়েছে প্রচুর পরিমানে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও পটাসিয়াম। তবে এতেই শেষ নয়, রয়েছে অনেক বেশি পরিমানে বিভিন্ন আন্টি অক্সিডেন্টও, তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আর জুড়ি নেই।রক্তের চাপ কমাতে ও সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এই সবজি।তাই হাইপার টেনশন বা ডায়াবেটিস থাকলে ডায়েটে রাখুন সজনে। হার্টের অসুখ ঠেকাতেও এটি কার্যকরী। অন্যদিকে হজমর সমস্যা সমাধানে ও পেটের ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে সজনে পাতা ও ফুলে থাকা 'আইসোথিয়োকাইনেটস' নামের নামের রাসায়নিকটি।

গ্রাম-বাংলায় একটি প্রাচীন ধারণা ছিল, বসন্তকালে সপ্তাহে দু-তিন দিন সজনে ফুলের বিভিন্ন পদ খেলে চিকেনপক্স বা হামের মতো অসুখকে দূরে সরিয়ে রাখা যায়।কথাটা অযৌক্তিক নয়। সজনের বিভিন্ন এন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেমকে সুস্থ রাখে। বিভিন্ন ভাইরাস ও অন্যান্য রোগ জীবাণুদের দূর করতে সাহায্য করে। তাই আসুন বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাইরাসের ভাইরাল হওয়া আটকাতে আমরা প্রতিদিনের ডায়েটে রাখি এই সুপার ফুড।

রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০

বর্ষায় চুলকানি ? ক্ষার থেকে দূরে থাকুন

বর্ষা পড়তে না পড়তেই শরীরে নানাধরণের সমস্যা শুরু। সবচেয়ে বেশি সমস্যা এলার্জি আর চুলকানি।ত্বকের সংক্রমণ তো ফি বছরের ব্যাপার।তবে সাবধানগুলো কিন্তু একই। আসুন জেনে নেওয়া যাক।
  • বর্ষার নতুন জলে ত্বকে সংক্রামণের সমস্যা থাকলে জল থেকে একটু দূরে থাকতেই হবে। মানে সরাসরি জলে হাত কম লাগাতে দেবেন। কি করে ?বাসন মাজা, কাপড় ধোয়া, ইত্যাদি ক্ষেত্রে বেবহার করুন সার্জিক্যাল গ্লাভস। কাজ মিতে গেলে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। 
  • একটু উষ্ণ জলে বাসন মাজুন, কাপড় ইত্যাদি ধুলে একটু সমস্যা কম হয়। 
  • ক্ষারযুক্ত সাবান একেবারেই বেবহার করবেন না। লিকুইড সাবান বরং ভালো।
  • হাত ভিজে রাখবেন না। সবসময় শুকনো গামছা বা কাপড় ধুয়ে মুছে নেবেন। আঙুলের কোনা পরিষ্কার করে মুছবেন। 
  • বেবি অয়েল কিনে রাখতে পারেন। ভালো করে হাথে মেখে তবে সাবানে হাত দিন। ঝামেলা কম হবে। 
  • আন্টিসেপ্টিক ক্রিম রাখুন ঘরে।বেশি সাবান বা জল ঘাটা হয়ে গেলে মেখে নেবেন।
  • স্নানের জল শোধন করে নিন। মেডিকেটেড কোনো লিকুইড পরিমাণমতো দিয়ে তবে স্নান করুন। 
  • হাতে বা ত্বকে লালভাব অথবা চুলকানি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন তবেই কোনো ওষুধ খাবেন।  

বর্ষায় এলার্জি ? হলুদ একটু কম খান



হলুদ সবচেয়ে বোরো এন্টিবায়োটিক সকলেই জানে।বর্তমানে বহু রোগের চিকিৎসার প্যথ হিসাবে চিকিৎসকরা হলুদ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু স্বাস্থ্যের পক্ষে হলুদের ক্ষতিকারক দিকগুলি সম্পর্কে জানেন কি ? আসুন জেনে নেওয়া যাক।

  • হলুদ রক্ত জমাট বাঁধতে বাঁধা দেয়। তাই যাদের রক্ত তিঞ্জনে সমস্যায় রয়েছে (সহজে রক্ত জমাট বাঁধতে চায় না), তাদের হলুদ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।
  • হলুদ অনেক সময় ক্যালসিয়াম অক্সালেটর হজমে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।এই হজম না হওয়ার ক্যালসিয়াম অক্সালেটে জমে পরবর্তীকালে কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করে।
  • দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত পরিমানে হলুদ খেলে ডায়রিয়া, হজমের গোলমাল, গা বমি বমি ভাবের মতো সমস্যায় দেখা দিতে পারে।
  • সম্প্রতি একটি গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, হলুদ থেকে এলার্জি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর ফলে ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে এই বর্ষাকালে হলুদ খাওয়া একেবারে কমিয়ে দিতে পারলে সবচেয়ে ভালো।

শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

সুস্থ থাকার ৫ উপায়



আমরা যা কিছু খাই তা যেমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে, তেমনি পরবর্তীতে ওবিসিটি, হৃদরোগ, ডায়বেটিস ও বিভিন্নরকম ক্যানসারের সমস্যা তৈরী করে। স্বাস্থকর ডায়েটের সঠিক উপাদান অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। যেমন বয়স, শারীরিকভাবে কতটা সক্রিয়, আমরা যেখানে থাকি সেখানে কিরকম খাবারদাবার পাওয়া যায় ইত্যাদি। যাইহোক, সবার জন্যই কিছু সাধারণ খাবারের পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে যা আমাদের সুস্থ দীর্ঘায়ু থাকতে সাহায্য করবে।

বিভিন্ন ধরণের খাবার খান 

আমাদের দেহে অদ্ভুত রকমভাবে জটিল। কোনো একটি মাত্রা খাবারে (বাচ্চাদের জন্য ব্রেস্ট মিল্ক ছাড়া ) পর্যাপ্ত পুষ্টি থাকে না। অতয়েব নিজেদের সুস্থ রাখতে চাইলে ডায়েটে তাজা ও পুষ্টিকর খাবার রাখতে হবে। নিশ্চিত সুষম খাবার পেতে যা করবেন -

  • আমাদের প্রতিদিনের ডায়েটে মসুর ডাল ও শুঁটি জাতীয় খাবারের সঙ্গে প্রধান খাবারের মিশ্রণ যেমন গম, ভুট্টা, চাল ও আলুর মিশ্রণ রাখুন। পাশাপাশি প্রচুর তাজা ফল ও সবজি, মাছ, মাংস, ডিম্ ও দুধ রাখবেন।
  • ডায়েটে গোটা খাবার রাখুন। যেমন অপক্রিয়াজাত ভুট্টা, বাজরা, ওটস, গম ও ব্রাউন রাইস। এগুলোতে যেমন প্রচুর ফাইবার থাকে তেমনি অনেক্ষন পেটও ভর্তি থাকে।
  • স্ন্যাকসের জন্য উচ্চ পরিমান শর্করা, ফ্যাট বা লবনযুক্ত খাবারের পরিবর্তে কাঁচা সবজি, লবন ছাড়া বাদাম এবং তাজা ফল রাখুন।

খাবারে লবণের পরিমান কমান

খাবারে লবণের পরিমান বেশি মানেই রক্তচাপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে, যা থেকে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সারা পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই লবণের প্রতি আসক্তি। এক্ষেত্রে বিশ্ব সাস্থ সংস্থা (হু)- পরামর্শ হলো, দিনে গড়ে ৫ গ্রাম লবন (এক চামচের সমান) খাওয়া উচিত। খাবারে লবণের পরিমান কমাতে যা করবেন।

  • রান্নায় অল্প পরিমানে লবন ব্যবহার করুন এবং লবনাক্ত সস ও মশলা এড়িয়ে চলুন।
  • বেশি লবণযুক্ত স্ন্যাকস না খাওয়াই ভালো, প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে তাজা, স্বাস্থ্যুক্ত স্ন্যাকস খান।
  • টিনজাত কিংবা শুকনো সবজি, বাদাম ও ফলের ক্ষেত্রে লবন ও শর্করা ছাড়া বাছুন।
  • টেবিল থেকে লবন ও মসলাদানি সরিয়ে ফেলুন এবং লবন খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। আমাদের স্বাধকোরক খুব তাড়াতাড়ি মানিয়ে নেয়। দেখবেন, কম লবণই খেতে ভালো লাগে।
  • কোনো খাবার কেনার সময় লেবেল চেক করুন এবং কম সোডিয়ামযুক্ত পণ্য বাছুন।

ফ্যাট ও তেলযুক্ত খাবার কম খান

আমাদের খাবারে অবশ্যই ফ্যাটযুক্ত খাবারের প্রয়োজন। কিন্তু তা বেশি খেলে ওবিসিটি, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শিল্প-উৎপাদিত ট্রান্স ফ্যাট স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক। ডায়েটে এই ধরণের ফ্যাট থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। খাবারে ফাতের পরিমান কমাতে যা করতে হবে -  

  • মাখন, চর্বি, ঘিয়ের পরিবর্তে সয়াবিন, ক্যানোলা, কর্ণফ্লাওয়ারের মতো স্বাস্থকর তেল ব্যবহার করুন।
  • পাঁঠার মাংসের পরিবর্তে মুরগির মাংস, কম ফ্যাটযুক্ত মাছ খাওয়া অভ্যাস করুন।
  • বাজার পরিবর্তে খাবার সেদ্ধ করার চেষ্টা করুন।
  • প্রক্রিয়াজাত ভাজা খাবারে শিল্প-উত্পাদিত ট্রান্স ফ্যাট থাকে। এছাড়া প্রি-প্যাকেজেড স্ন্যাকস, স্যাকা ও ভাজা খাবারে মার্জারিন ও ঘি থাকে। অতএব এই জাতীয় খাবার এরিয়ে চলুন।

কম চিনি খান 

অতিরিক্ত চিনি শুধু দাঁতের জন্যই খারাপ নয়, ওবিসিটির ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। ফলে দীর্ঘস্হায়ী শারীরিক সমস্যাও হতে পারে। প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পানীয়তে লবণের পাশাপাশি লুকিয়ে থাকা শর্করার মাত্রার দিকে ধান দেওয়া জরুরি। উধাহরণসরূপে বলা যায়, একটি সদর ক্যানে ১০ চা চামচ প্রযন্ত চিনি থাকতে পারে। কম চিনি খেতে যা করতে হবে।

  • মিষ্টি ও শর্করারজাতীয় পানীয় যেমন, ফ্রুট জুস, ফিজি ড্রিঙ্কস, ফ্লেভার ওয়াটার, এনার্জি এন্ড স্পোর্টস ড্রিঙ্কস, রেডি-টু-ড্রিংক টি, কফি, ফ্লেভারড মিল্ক ড্রিঙ্কস যতটা সম্ভব কম খান।
  • বাচ্চাদের মিষ্টিজাতীয় খাবার দেওয়া হেকে বিরত থাকুন। ২ বছরের নিচে বাচ্চাদের পরিপূরক খাবারে ও চিনি যুক্ত করা উচিত নয় এবং ওই বয়েসের পরেও ওই দুটি উপাদান ব্যবহার যেন সীমিত থাকে।

মদ্যপান এড়িয়ে চলুন

মদ্যপান কখনোই স্বাস্থ্যকর ডায়েট নয়।কিন্তু অনেক অনুষ্ঠানেই মদ্যপানের ব্যবস্থা থাকে।প্রায়ই খুব পরিমান মদ খেলে আঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি লিভারের ক্ষতি, মানসিক অসুস্থতা, ক্যান্সার, হার্টের অসুখ হতে পারে। হু'র মতে, মদ্যপানে কোনো সুরক্ষার স্তর নেই, এমনকি কম মাত্রায় মদ্যপান করলেও শারীরিক ঝুঁকি থেকেই যায়। যদি আপনি গর্ভবতী হন, ব্রেস্টফিডিং করান, গাড়ি চালান বা এমন কোনও কাজ যাতে ঝুঁকি রয়েছে, যদি এমন কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে যা মদ্যপানে আরও খারাপ হতে পারে। যদি আপনার বা পরিচিত কারও এই সব সমস্যা বা অন্যান্য সাইকোআঁক্টিভ সমস্যা থাকে তাহলে সাস্থকর্মী বা বিশেষজ্ঞ এর থেকে সাহায্য নিতে ভয় পাবেন না। এছাড়া হু সেলফ হেল্প গাইড তৈরী করেছে যা নেশায় আসক্ত মানুষকে ফিরিয়ে আনতে বা এর ব্যবহার রুখতে সহায়তা করবে।


বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০

শিশুদের মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে কি কি করবেন


জীবনযাপনের চলচিত্রটা হটাৎ কেমন যেন বদলে গিয়েছে। ফাঁকফোকর দিয়ে ঢুকে পড়েছে একরাশ টেনশন, আতঙ্ক এমনকি মৃত্যু ভয় পর্যন্ত।অজানা মরণভয় নিয়ে প্রতিদিনের মরণভয়। আর ভালো লাগছে না। আমাদের বোর্ডের এই অবস্থা, শিশুদের কথা একবার ভাবুন তো ? নতুন ক্লাসে উঠেছে অথচ সচলে যাওয়া নেই। নেই একসঙ্গে টিফিন ভাগ করে খাওয়ার মজা, নতুন বইয়ের গন্ধ, নতুন স্কুল, ইউনিফর্ম কিছুই নেই। এই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে ওদেরই বেশি কষ্ট হচ্ছে। কোভিদ-১৯, লকডাউন-শব্ধগুলি সব শিশুদের মুখস্থ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ওদের জানা নেই এসবের মানে ও গুরুত্ব। তাই শিশুমনে অজানা ভয় ও দ্বন্ধ জন্ম নিয়েছে। এর জন্য দায়ী কিন্তু আমরা, অভিভাবকরা। যেহেতু শিশুরা আমাদের অনুসরণ করে, আমাদের আচার-আচরণ, কথাবার্তা খেয়াল করে, তাই আমরা যদি অজানা ভবিষৎ নিয়ে শংকিত হতে থাকি তা শিশুমনের উপর অসম্ভব চাপ তৈরী করে। এই কারণে আমাদের খুব সচেতন থাকতে হবে, বিশেষ করে ২-৫ বছর বয়সী শিশুদের অভিভাবকদের।মনে রাখতে হবে একজোড়া চোখ সবসময় আমাদের অনুসরণ করছে, তাই আচার-ব্যবহার-কথাবার্তার সময় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এমন কিছু ওদের সামনে আমাদের আলোচনা ভুল বার্তা পৌঁছায়। সবসময় ওদের মানসিক অবস্থার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা জানি ২-৫ বছর সময়টা শিশুদের জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মনোবিদদের মতে. এই সময়ে শিশুর ব্যক্তিত্বের বিকাশ সম্পূর্ণ হয়। তাই ওদের সামনে সবসময় যেন সঠিক উধাহরন থাকে। এই সময় শারীরিক মানসিক বিকাশের সঙ্গে সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওদের সামাজিককরণ ও সোশ্যালাইজেশন।বাড়ির পরিবেশ ছাড়া স্কুল ও খেলার মাঠ এই সামাজিকীকরণের পক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সেখানে বিভিন্ন ধরণের শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা ও ভাবের আদানপ্রদানের মাধ্যমে শুরু হয় তাদের সামাজিকীকরণের প্রথম পাঠ। সে সুযোক আজ হটাৎ করে চার দেওয়ালের মাঝে আবদ্ধ।তাই ওদের মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। ওদের ভালো লাগা, খারাপ লাগাগুলো যেন আমাদের নজর এড়িয়ে না যায়। মানসিক চাপ, ভয়, টেনশন প্রকাশ করার ক্ষমতা ওদের তৈরী হয়নি। তাই োর যাতে প্রতিদিন খুশিতে-আনন্দে কাটাতে পারে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

কি কি করবেন :-


  • মা-বাবা সবাই একসঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটান।
  • কিছু গেম খেলার পরিকল্পনা করুন এবং একসঙ্গে খেলুন।
  • ঘরের কিছু কাজে ওদের সামিল করুন। যেমন, ছোটোখাটো চেয়ার-টেবিল পরিষ্কার করা, জিনিস গুছিয়ে রাখা ইত্যাদি।
  • ছবি আঁকা, রং-করা, ফেলে দেওয়া জিনিস থেকে কিছু বানানো ইত্যাদি কাজে ওদের উৎসাহিত করুন এবং প্রশংসা করুন।
  • একসঙ্গে শুয়ে গল্প বলুন কিংবা গণ্য পরে শোনান। বিভিন্ন রূপকথার গল্প, নীতিগল্প, মহাপুরুষের জীবনী পরে শোনান।
  • ওদের পছন্দমতো খাবার যেমন, কেক, পুডিং, চাউমিন ইত্যাদি একসঙ্গে তৈরী করুন।
  • পুরানো দিনের অ্যালবাম একঙ্গে ছবি দেখুন।
  • একসঙ্গে ফুল গাছ লাগানো, পরিচর্যা করুন। রোজ ওদের দিয়ে গাছে জল দেওয়ান।
  • সকাল-সন্ধ্যা সময় বের করে একসঙ্গে প্রার্থনা ও কোণও মন্ত্র উচ্চারণ করুন। এছাড়া ব্যায়াম, মাইন্ডফুলনেস প্র্যাকটিস, ডিপ ব্রিডিং যদি করতে পারেন। এতে মনের ক্লান্তি দূর হবে। মনে রাখবেন, এগুলোই মেডিটেশনের প্রথম পাঠ।
  • ছাদে বা খোলা জায়গায় খেলার সুযোগ থাকলে সাইকেল চালানো, দৌড়াদৌড়ি, কানামাছি খেলা ইত্যাদি খেলা যেতে পারে।
  • পড়াশোনার বিষয় গুলোকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য নানারকম গেম প্ল্যান করুন। কখনো কখনো নিজে পড়ুয়া হয়ে ওদের পড়াতে বলুন।
  • সবাই কসঙ্গে খাওয়া, ঘুমানো ইত্যাদি ব্যাপারে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলুন এবং আপনার শিশুকেও সেখান।
  • আমরা যেমন মাঝে মাঝে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন এর সঙ্গে কথা বলি, শিশুদেরও ওদের বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ফোন কথা বলার বা ভিডিওকলের মাধ্যমে বন্ধুদের দেখার সুযোগ করে দিতে হবে।
  • শিশুর বয়স এবং মানসিক স্তর অনুযায়ী করোনা সংক্রান্ত সঠিক তথ্য দিতে হবে।
  • বলা বাহুল্য ওদের নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, স্বাস্থবিধি মেনে চলার পথ দিতে হবে এবং সেইসব নিয়মিত মেনে চলা অভ্যাস করতে হবে।

কি কি করবেন না :-


  • মাঝে মাঝে টিভি খুলে করণের আপডেট দেখাবেন না, বিশেষ করে শিশুর সামনে।
  • খবরের কাগজে পড়ে কোনো নেতিবাচক আলোচনা শিশুদের সামনে করবেন না।
  • অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সবাই চিন্তিত। কিন্তু খেয়াল রাখবেন, আর ঢেউ যেন ওদের মনে না ছোঁয়। অতএব, এই সংক্রন্ত কোনও আলোচনা ওদের সামনে করা চলবে না।
  • ঘরবন্দি মুহূর্তে অনেক সময় আপনজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি, মন কষাকষি হওয়া খুব স্বভাবিক ,কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, আমরা যেন শিশুদের সামনে সংযত থাকি।
  • বেশিক্ষন টিভি, মোবাইল ইত্যাদি দেখার সুযোগ দেবেন না।



শৈশব হারাতে পারে শ্রমে




রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০

মাস্ক আগে না ময়শ্চারাইজার ?


অন্তত আধঘন্টা আগে ময়শ্চারাইজার যুক্ত ক্রিম লাগান। তাহলে মুখের ত্বকটা বাঁচবে। এখন যা সময়, মাস্ক তো পড়তেই হবে। মাস্ক ছাড়া বাইরে বেরোনো যাবে না এক-পা-ও। তবে মাস্ক মুখের এক বোরো অংশই ঢেকে রাখে। বেশিক্ষন এটা পরে থাকলে তার জেরে নাক ও গালে তৈরী হয় চুলকানি, জ্বালা ভাব। আর যার প্রভাবে ঘটতে পারে ধীর্ঘস্থায়ী ত্বকের ক্ষতি।  এমনি তথ্য উঠে এসেছে হাডার্সফেল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের গবেষণায়।

শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

SANTANER PUSTI BARBE NASHPATI KHAWALE



  • Nashpatite (pear) prachur antioxidant ache. Tai nashpati (pear) khawale bachhar rog pratirodhe khamota barbe. Roge bhugbeo kom.
  • Thikmoto pet pariskar na hole bachha khete chay na. Nashpati (pear) khawale pet pariskar to hobei. Songe bachhar khawar ruchio firbe, khide barbe.
  • Je sob sishu sobe mayer dudh bondho koreche tader sarire vitaminer poriman barate roj alpo kore Nashpatir (pear) rosh khawate paren.
  • Tonsils ar jonno bachha sara-bachar vugche? somadhan royeche Nashpatite (pear). Nashpati (pear) vocal cord porishkar rakhe. Abar tonsils somoshao kombe.
  • Vitamin- A, B, E, C, Calcium, Iron, Sodium royeche nashpatite (Pear). Tai roj akta Nashpati (pear) khawate parle apnar bachhari pusti barbe.

শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

SANTANER HAR MAJBUT HOBE



  • Nana karone bachha pray petebethay bhoge. Niyomito paka pepe (Papaya) ba pepe khawale osudh charai petebetha kombe.
  • Peper (Papaya) kosh ba dudh lal batasha diye khali pete khawale bachhar liver bhalo thkbe.
  • Prachur poriman vitamin-A thakay pepe (Papaya) bachhar chokher pokheo vishon upokari.
  • Papete (Papaya) calcium ra potassium ar poriman prachur. Tai har (Bone), dat (Tooth) majbut korte bachhake aboshoi khawan pepe.
  • Bachha apustite vugche? folic acid ar vitamin-B complex somridho pepe khawan. Sarire vitaminer ghati mitbe. 

শনিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৬

SANTANER SOMOSHA KOMAY BEDANA



  • Bristite vije bachha prachondo jore kabu? ak glass bedanar rosh (Pomegranate) khawalei jor kombe. Mukher ruchio firbe.
  • Thikmato dat (Tooth) na majar janno bachha nischoi dater roge voge. Akmatro bedana (Pomegranate) pare ai somosha metate. Niyomito khawale upokar milbei.
  • Roktalpotar (Anemia) janno anek bachhai tara-tari klanto hoye pore. Osudher bodle niyomito bedana (Pomegranate) khawan. Ar modhe thaka iron Hemoglobiner poriman barbe. Klantio komiye debe.
  • Krimir janno bachha jerbar? Roj bedana (Pomegranate) khawale krimi kombe sathe bachhar ojon barbe.
  • Bachhar pet (Stomach) bhalo rakhte niyomito bedana (Pomegranate) khawan.

বিরোধিতা মানে শুধু অন্ধ বিরোধিতা নয়

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন, গ্যাস আর দাম যথেষ্ট উদ্বেগ বাড়িয়েছে যার প্রভাব দেশের জনগণের সঙ...